![]() |
কেউ যখন ক্লান্ত হয়, দেহ বিশ্রাম চায়, তখন চোখ তার ঘুমে কাতর হয়, শোয়ামাত্র ঢলে পড়ে গভীর ঘুমে। দেহের যখন খাবারের প্রয়োজন পড়ে, তখন মানুষ ক্ষুধার্ত হয়। দেহের পানির দরকার হলে মানুষ তৃষ্ণার্ত হয়। কিন্তু, কারো স্বাস্থ্য ভাল না থাকলে তার ক্ষুধা-তৃষ্ণা নিদ্রা তেমন হবে না।
আমাদের দেহ কখনো কখনো অসুস্থ হয়ে যায়। আমরা কখনো বা অসুস্থ হওয়ার আগেই অসুখের আভাস পাই। তখন আগাম সতর্কতামুলক ব্যবস্হা গ্রহণ করি। কোন কোন সময় আগে টের পাইনা, কাজেই অসুস্থ হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।
দৈহিক অসুস্থতায় আমরা কোন কাজ করতে পারি না। সুস্থ অবস্থায় যে সব খাবার আমাদের অতি প্রিয়, অসুস্থ অবস্থায় তা মুখে একদম রোচে না। সুস্বাদু খাবার, মিষ্টান্ন সব বিসাদ লাগে। পরম যত্নে রান্না করা তরকারী তেতো লাগে। সুন্দর নরম তুলতুলে বিছানায় ঘন্টার পর ঘন্টা আমরা শুয়ে থাকি, ঘুম আসে না।
দেহের মত রূহ বা আত্মারও অসুখ হয়। শরীরের অসুখ আমরা সহজে টের পাই, কিন্তু রূহের বা আত্মার অসুখ এত সহজে আমদের কাছে ধরা পড়ে না।
আত্মার অসুস্থতার উপসর্গ কি? নামাজ পড়তে যদি ভাল না লাগে, মসজিদে সময় কাটালে যদি মেজাজ খারাপ হয়। তাহলেই বুঝতে হবে আত্মার মধ্যে কোন গোলমাল হয়েছে। আত্মায় কোন রোগ ঢুকেছে। আত্মা অসুস্থ হলে, সৎপথ ও আমালুস সালেহা থেকে তা বিচ্যুতি হলে তার জিকিরের চাহিদা ফুরিয়ে যাবে। কারণ জিকির হচ্ছে সুস্থ আত্মার খাবার।
ক্ষুধা না লাগলে আমরা বুঝি শরীরের ভিতর একটা কিছু হয়েছে। কখনো জামাতের নামাজ ধরতে না পারলে যদি আমাদের অস্বস্তি না হয়, তাহলে আমাদের বুঝতে হবে যে আমাদের আত্মার অসুখ হয়েছে।
জাকাত বা বিভিন্ন প্রকার কোরবানী দিতে যদি আমাদের হাত সঙ্কুচিত হয়, তাহলে আমাদের কোন নেক্কার মানুষের পরামর্শ গ্রহণ করে বুঝতে হবে আত্মার কি অসুবিধা হয়েছে। আত্মার অসুস্থতার লক্ষ্মণ হচ্ছে শাহাদাত, দাওয়াত, সাদাকাত, মেহনত, তসবিহ, তাহলিল প্রভৃতির মধ্যে আগ্রহ বোধ না করা আগ্রহ বোধ না জাগা। দ্বীনের প্রতি ভালবাসার অভাব হচ্ছে অসুস্থ মন এবং মাগদূব ও দোয়াল্লিনের লক্ষ্মণ।
আত্মা দেহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে হয় লাশ। আমাদের সকল দৈহিক মানসিক ও আর্থিক সম্পত্তি আমরা ব্যয় করি দেহের আরামের জন্য। অসুস্থ আত্মার চিকিৎসার জন্য আমরা কতটুকু খরচ করি?
দেহের খাদ্য সমস্যা নিয়ে নিয়ত ব্যস্ত থাকি আমরা। তার প্রয়োজনও আছে। কিন্তু আত্মার খাদ্যের প্রতি কতটা গুরুত্ব আমরা দিই, তা-ও দেখতে হবে। আত্মার খাদ্য কি? ঈমান, ইয়াকিন, জিকির, সালাত, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি হল আত্মার খাদ্য। এই খাদ্যের প্রতিও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।
দেহের খাদ্য আসে জগত থেকে। মাটি, পানি, বায়ু, অগ্নি প্রভৃতি জাগতিক বস্তু দিয়েই আমাদের দেহ তৈরী। আত্মা এসেছে আল্লাহ তা'আলার কাছ থেকে। কেহ অসুস্থ হলে আলো, বাতাস, পানি, ফলমূল কিছুই খেতে ইচ্ছা করে না। দুধ হোক, মধু হোক সব বিস্বাদ লাগে। অসুখ সারানোর জন্য ঔষধের দরকার পড়ে। ঔষধ তেতো হলেও তা খেতে হয়। কষ্ট হলেও ইনজেকশন নিতে হয়। প্রাণহানির আশংকা থাকলেও অপারেশন করতে হয়।
আত্মার অসুখ হলে, মানুষ তাবৎ পাপকর্মে লিপ্ত হলে কি করি আমরা? আত্মা এসেছে আল্লাহ তা'আলার কাছ থেকে। জাগতিক ঔষধে তার কাজ হবে না। প্রয়োজন হবে খোদাই ঔষধের। জিকির, তেলাওয়াত, সালাত, দাওয়াত, এবাদত ইত্যাদির।
সারা জীবন আমরা কাজ করি দেহের আরামের জন্য। আর আত্মার আরামের জন্য কি করি? কিছুই না। তার জন্য কতটুকু সময় দিই? মোটেই সময় দিই না। দেওয়া উচিত। আত্মার জন্য কিছু বিনিয়োগ অবশ্যই জরুরী। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলের দেহ ও আত্মাকে পরিপূর্ণ সুস্থ রাখুন। আমীন।
লেখকঃ খতীব, আব্দুচ্ছালাম বাগেরহাটী, পিলখানা, ঢাকা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন